কালবৈশাখীও থামাতে পারেনি বর্ষবরণের আনন্দ

বিডিমেট্রোনিউজ ডেস্ক ॥ সকাল থেকে ঝলমলে আবহাওয়ায় প্রাণোচ্ছ্বল বৈশাখী উৎসবের রাশ টানল বিকেলে কালবৈশাখীর ঝড়ো বৃষ্টি। নতুন বাংলা বর্ষবরণে শনিবার ভোর থেকেই রমনা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জড়ো হন বিপুল সংখ্যক মানুষ। রঙিন পোশাকে সব বয়সী মানুষ মেতে ওঠেন উৎসবে। ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরসহ আরও বেশ কিছু জায়গায় পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

DC-Hall-20

বৈশাখী উৎসবের নগরীতে বিকালে হঠাৎ বিড়ম্বনা নিয়ে হাজির হয় ঝড়ো বৃষ্টি। সারা দিনের আনন্দ তাই শেষ বিকেলে এসে পন্ড। বিকেল ৪টা থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়, আধা ঘণ্টাখানেক পর শুরু হয় ঝড়ো বৃষ্টি, পড়ছিল শিলাও।

বৃষ্টি শুরু হলে শাহবাগ ও এর আশপাশের এলাকায় বৈশাখের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া দর্শনার্থীরা ছোটের আশ্রয়ের খোঁজে। আবার অনেকে বৃষ্টিতে কাক-ভিজেই রওনা হন গন্তব্যের দিকে।

বৃষ্টির বাগড়ার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ছিল উৎসবমুখর। সব বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর ছিল পুরো এলাকা। নানা রংয়ের পোশাক ও সাজে সেজে এসেছিলেন তরুণ-তরুণীরা, বাদ যায়নি শিশুরাও। বৈশাখের নানা আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে তাদের উপস্থিতিতে।

‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ প্রতিপাদ্যে বঙ্গাব্দ ১৪২৫ কে বরণ করে নিতে পহেলা বৈশাখের সকালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। সকাল থেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছিল ব্যাপক জন সমাগম। নাগরদোলায় চড়েন অনেকে, কেউ কেউ মেতে ওঠেন খেলায়; বাদ থাকেনি কেনাকাটা আর গ্রামীণ স্বাদের খাবার উপভোগ। তুলির আঁচড়ে নিজেকে রাঙিয়েছেন অনেকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা, ডাকসু চত্বর, মল চত্বরসহ বিভিন্ন স্থানে ছিল নানা আয়োজন। বাংলা একাডেমি চত্বরে ছিল পুতুল নাচসহ নানা আয়োজন। সকাল থেকে শিশুদের ভিড় জমে শিশু পার্কে। শিশুপার্কের সামনেই ছিল লোকজ সঙ্গীতানুষ্ঠান।

বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিতে নগরে নানা প্রান্তে ছিল নানা আয়োজন। নৃত্যগীতে বৈশাখ বন্দনার পাশাপাশি ছিল বৈশাখী মেলাও। শনিবার বিকালের আচমকা বৃষ্টিতে উন্মুক্ত আয়োজন সব লণ্ডভণ্ড হয়ে গেলেও উৎসবের রেশ ছিল সন্ধ্যাজুড়েও। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই উৎসবমুখর নাগরিক স্রোত চলে বর্ষবরণের নানা আয়োজনে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্মুক্ত আয়োজন শেষ হয়ে গেলেও শহরের বৃষ্টি ভেজা পথে ছিল উৎসবমুখর মানুষের ঢল। শেষ বিকালে রামপুরা, মগবাজার ও তেজগাঁও এলাকার বাসিন্দাদের উপচেপড়া ঢল নামে হাতিরঝিলে।

বাংলা একাডেমি এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)-এর যৌথ উদ্যোগে শনিবার থেকে শুরু হয়েছে ১০ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা। বিকালে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এই মেলা উদ্বোধন করেন। বিসিক চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহ. ইফতিখারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। মেলা চলবে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। প্রতি সন্ধ্যায় মেলা মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বাংলা একাডেমি প্রকাশিত বই নিয়ে শনিবার একাডেমি প্রাঙ্গনে শুরু হয়েছে ‘বইয়ের আড়ং’। ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে বইয়ের মেলা চলবে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট বিকাল পৌনে ৪টায় ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর মঞ্চে যন্ত্রসংগীতের মাধ্যমে শুরু করে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। উন্মুক্ত আয়োজনে সময় সঙ্কোচন করা হলেও রবীন্দ্র সরোবরের এই অনুষ্ঠানটি সন্ধ্যার পরও চালাতে অনুমতি ছিল ডিএমপির। ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বিকাল ৫টার পরে এই আয়োজনে যোগ দিয়েছিলেন বলে জানান সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের অনুষ্ঠানে দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে বহ্নিশিখা, স্বভূমি লেখক শিল্পী কেন্দ্র। রবীন্দ্র সঙ্গীত পরিবেশন করেন মহাদেব ঘোষ, আরিফ রহমান শোনান শাহ আবদুল করিমের গান। আবিদা রহমান সেতুর ধামাইল গান পরিবেশনার পাশাপাশি সানজিদা মঞ্জুরুল হ্যাপি শোনান লোকগীতি।

অনুষ্ঠানে আকরামুল ইসলাম শোনান মরমি সাধক হাসন রাজার গান। কানন বালা সরকার, শান্তা সরকার-পরিবেশন করেন লোকগীতি। সমীর বাউল শোনান লালনগীতি, রঞ্জিত বাউল ও মমতা দাসীরা পরিবেশন করেন বাউল সঙ্গীত। ছিল বাউল দেলোয়ার ও সনিয়া বাউলের পরিবেশনা। পরে শফিউল আলম রাজা ভাওয়াইয়া গান পরিবেশন করেন। একক আবৃত্তি পর্বে রেজীনা ওয়ালী লীনা, ঝর্ণা সরকার আবৃত্তি পরিবেশন করেন। দলীয় নৃত্য পরিবেশনায় ছিল নৃত্যম, ও নৃত্যজন।

 মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে নববর্ষ বরণ অনুষ্ঠান শুরু হয় সকাল সাড়ে ৯টায়। এ অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যজন ও সঙ্গীতাঙ্গন মনিপুর। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কল্পরেখা, ইউসেপ স্কুল, আগারগাঁও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও বধ্যভূমির সন্তানদলের পরিবেশনা। অনুষ্ঠানে বাউল গান পরিবেশন করেন রঞ্জিত দাস বাউল ও মমতা দাসী। এছাড়া জাতীয় প্রেস ক্লাব ও ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে সাংবাদিকরা মেতে ওঠেন বর্ষবরণে।

Print Friendly
User Rating: 5.0 (1 votes)
Sending