গোল্ড কোস্টের সমুদ্র তটে কমনওয়েলথ গেমসের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন

বিডিমেট্রোনিউজ ডেস্ক ॥  স্বপ্নকে ভাগা ভাগি করার অঙ্গিকারে বর্ণাঢ্য উদ্বোধন হলো ২১তম কমনওয়েলথ গেমসের। গতকাল বাংলাদেশ সময় বিকাল চারটায় অস্ট্রেলিয়ার পর্যটন নগরী গোল্ড কোস্টে পর্দা ওঠে বৃহৎ এই ক্রীড়াযজ্ঞের। গোল্ড কোস্টের কারারা স্টেডিয়ামে আনুমানিক ৪০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে প্রধান অতিথি থেকে কমনওয়েলথ গেমসের উদ্বোধন করেন প্রিন্স অব ওয়েলস চার্লস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কমনওয়েলথ গেমস ফেডারেশনের (সিজিএফ) সভাপতি লুইস মার্টিন, গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমস কমিটির চেয়ারম্যান পিটার বিওয়েটে এবং গোল্ড কোস্ট শহরের মেয়র টম টেট।

পর্যটন নগরী হিসেবে গোল্ড কোস্ট শহরের সৌন্দর্য্যরে কোন তুলনা হয় না। তবে কমনওয়েথ গেমসকে ঘিরে শহরটির সৌন্দর্য্য যেন আরো বেশী বিকশিত হলো। ফলে গোল্ড কোস্টকে মনে হচ্ছে একটি স্বপ্নীল শহর। এমনিতেই পর্যটন নগরী, তার ওপর কমনওয়েলথ গেমসের এই আয়োজন বিশ্ববাসীর কাছে গোল্ড কোস্ট শহরকে নতুনভাবে আবির্র্ভুত করেছে। কাল গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে পুরো নগর যেন সেজেছিলো অপরূপ সাজে।

কারারা স্টেডিয়ামে গেমসের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন দেখতে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছেন হাজারো দর্শক। তাদের চোখে-মুখে ছিল বাড়তি উচ্ছাস। আগে থেকেই নির্ধারণ ছিল কারারা স্টেডিয়ামেই হবে কমনওয়েলথ গেমেসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। তাই স্টেডিয়ামকে ঘিরে ছিল বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার স্বেচ্ছা-সেবকদের তৎপরতারও ছিল চোথে পড়ার মতো। অনুষ্ঠান শুরুর নির্ধারিত সময়ে অনেক আগেই পুরো স্টেডিয়াম দর্শকে পরিপূর্ণ হয়ে যায়।

অস্ট্রেলিয়া সময় রাত সাড়ে আটটায় মাঠে প্রবেশ করেন প্রিন্স চার্লস। মাত্র দশ মিনিটের মধ্যে শেষ হয় উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা। মেয়র টম টেট সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে রাত ১০টায় প্রিন্স চার্লস আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষনা করেন ২১তম কমনওয়েলথ গেমসের।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন ও পতাকা উত্তোলন শেষ হলে আতাশবাজি পোড়ানো হয়। এরপরই জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী ববি অ্যালুর কন্ঠে ভেসে আসে ‘উকুলেলে’ শিরোনামের গান। গানের সঙ্গে একদল পারফরমার চমৎকার উপস্থাপনায় তুলে আনেন গোল্ড কোস্টের সমুদ্র তটে বিনোদন ও সার্ফিংয়ের দৃশ্য। পরের উপস্থাপনায় ছিল সুমদ্র স্নানে এসে ডুবন্ত পর্যটকদের কিভাবে উদ্ধার করে লাইফ গার্ডরা। এর সঙ্গে মিশেল ছিল স্থানীয় আদিবাসিদের সংস্কৃতি।

এ দুই উপস্থাপনার পরেই শুরু হয় অংশগ্রহণকারী অ্যাথলেটদের মার্চপাস্ট। প্রথমে মাঠে প্রবেশ করেন গত আসরের আয়োজক দেশ স্কটল্যান্ডের অ্যাথলেটরা। মার্চপাস্টেও প্রাধান্য দেয়া হয় সার্ফিংকে। সার্ফিংময় এই মার্চপাস্টে পতকাবাহকের সঙ্গে দেশের নাম সম্বলিত প্লেকার্ডের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয় সার্ফিং বোট।

এরপর একে একে মাঠে প্রবেশ করে কানাডা, ইংল্যান্ড, জিব্রাল্টা, নিউজার্সি, মাল্টা,উত্তর আয়ারল্যান্ড সহ কমনওয়েলথভুক্ত দেশের খেলোয়াড়রা। এশিয়া অঞ্চলের প্রথম দেশ হিসেবে মাঠে প্রবেশ করে বাংলাদেশ। কৃতি শ্যুটার আবদুল্লাহেল বাকী এসময় বহন করেন লাল-সবুজের পতাকা। বাংলাদেশ দলের সম্মুখভাগে ছিলেন সেফ দ্যা মিশন ও বাংলাদেশ শ্যুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনের সভাপতি নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, টিম ম্যানেজার আশিকুর রহমান মিকুসহ কনটিনজেন্টভুক্ত বাংলাদেশ দলের অ্যাথলেট ও কর্মকর্তারা। সবশেষে মাঠে প্রবেশ করে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিশাল বহর।

কমনওয়েলথ গেমসের এবারের আসরে বাংলাদেশসহ ৭১টি দেশের ৬ হাজার ছয়শ’রও বেশী অ্যাথলেট ও কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করছেন। গেমসের মুল আয়োজক শহর গোল্ড কোস্ট হলেও ব্রিসবেন, কেয়ার্নস ও টাউন্সভিলেতেও অনুষ্ঠিত হবে বেশ কয়েকটি ডিসিপ্লিনের খেলা। কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে সর্বাধিক ২৩টি ডিসিপ্লিনে খেলা অনুষ্ঠিত হবে এবার। পাশাপাশি থাকছে ৭টি প্যারা স্পোর্টসও। সর্বমোট ২৭৫টি স্বর্ণপদকের জন্য লড়বেন কমনওয়েলথভুক্ত দেশের ক্রীড়াবিদরা।

সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে মাল্টিইভেন্টের গেমে এই প্রথম লিঙ্গ সমতা আনা হয়েছে। গেমসে সমান সংখ্যক পদক রাখা হয়েছে নারী ও পুরুষ অ্যাথলেটদের জন্য। এ আসরে প্রথমবারের মত অভিষিক্ত হতে যাচ্ছে বিচ ভলিবল, প্যারা ট্রাইথলন ও মহিলাদের সেভেন -এ সাইড রাগবি প্রতিযোগিতা। গোল্ড কোস্ট শহরকে ‘সার্ফিং প্যারাডাইস’ বলা হলেও, দৃষ্টি নন্দন খেলাটি এখনো কমনওয়েলথভুক্ত না হওয়ায় সেটি স্থান পায়নি এবারের আসরে।

Print Friendly
User Rating: 5.0 (1 votes)
Sending