স্ত্রীর দাবীতে প্রেমিকের বাড়ীতে ৫দিন ধরে অনশনে

এস.এম ইলিয়াস জাবেদ, কলাপাড়া প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় স্ত্রীর দাবীতে প্রেমিকের বাড়ীতে গত ৫দিন ধরে অনশন করছে প্রেমিকা। এ খবর পেয়ে আত্মগোপন করেছে প্রেমিক মিঠুন সিমলাই।
কলাপাড়া উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের চম্পাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে ।
প্রেমিকা ইশানী হাওলাদারের বক্তব্য, চম্পাপুর গ্রামের নির্মল সিমলাই’র ছেলে মিঠুন সিমলাই’র সাথে ক্লাশ সপ্তম শ্রেনীতে পড়াশোনা করা অবস্থায় প্রেমের সর্ম্পক গড়ে ওঠে তার। দীর্ঘ সাত বছর ধরে সম্পর্ক চলাকালীন বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে কপালে সিদুঁর পড়িয়ে দেয় মিঠুন। এতে ইশানী মনে প্রানে মিঠুনকে স্বামী হিসেবে গ্রহন করে বিভিন্ন সময় রাত্রি যাপন করে তার সাথে।এতে সে অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে মিঠুন ইশানির সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। বাধ্য হয়ে ইশানির বাবা মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দেয়ার জন্য ঠিক করেন। এ খবর পেয়ে প্রেমিক মিঠুন ইশানীকে স্ত্রী হিসেবে নিবে বলে আশ্বাস দিয়ে বিয়েটি ভেঙ্গে দেয়। পূন:রায় মিঠুনের সাথে ঘর সংসার করার স্বপ্নে বুক বাঁধে প্রেমিকা ইশানী । এরপর থেকে মিঠুন নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে তার সাথে। ইতিমধ্যে মিঠুন অন্যত্র বিয়ে করার প্রস্তুতি নিলে বিষয়টি ইশানী তা জেনে স্ত্রীর দাবীতে গত মঙ্গলবার দুপুরে প্রেমিক মিঠুনের বাড়ীতে আশ্রয় নিতে গেলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল দেয় মিঠুনের পরিবারের সদস্যরা। পরে ইশানী একই বাড়ীর ওপরে মিঠুনের চাচা জয়দেব সিমলাই’র বাড়ীতে স্ত্রীর দাবীতে অবস্থান নিয়েছে ।
এর আগে গত চৈত্র মাসেও ইশানী স্ত্রীর দাবীতে মির্জাগঞ্জ থেকে প্রেমিক মিঠুন সিমলাই’র বাড়ীতে এসেছিল । সে সময় স্থানীয়রা তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছিল বলে ইশানী জানিয়েছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মিঠুন সিমলাই’র সাথে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রবিন হাওলাদার জানান, বিষয়টি কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে । তবে মিঠুন সিমলাই বিষয়টি অন্যায় করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চম্পাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রিন্টু তালুকদার জানান, ’ওই এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের গন্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ।’
কলাপাড়া থানার ওসি খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ’বিষয়টি আমি জেনেছি। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
Print Friendly
User Rating: 5.0 (1 votes)
Sending