চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে যানবাহন চলাচলে প্রস্তুত

রেজাউল করিম: চট্টগ্রামের সৌন্দর্য্য ও নান্দনিকতার আরও একটি বড় অনুষঙ্গ হিসেবে যোগ হয়েছে নগরীর লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা বিমানবন্দর পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে।

এর নামকরণ করা হয়েছে চট্টগ্রামের প্রয়াত মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নামে। গত বছরের ১৪ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে এই এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করেছিলেন। কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন না হওয়ায় তখন যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়নি। তবে চলতি মে মাসেই এক্সপ্রেসওয়েটি যানবাহন চলাচলের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েছে। জুনের প্রথম সপ্তাহেই এক্সপ্রেসওয়ে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটির নির্মাণ ব্যয় ৪ হাজার ২৯৯ কোটি টাকা। প্রকল্পটিতে বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। এক্সপ্রেসওয়ের মূল অবকাঠামোতে ৩৯৪টি পিলার রয়েছে। নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে যানবাহন উঠা-নামার জন্য র‌্যাম্প রয়েছে ১৫টি (নির্মানাধীন)। বর্তমানে প্রকল্পের ১৩টি র‌্যাম্প ব্যতিত মূল এক্সপ্রেসওয়ে ও ২টি র‌্যাম্প যানবাহন চলাচলের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েছে। সৌন্দর্য্য বর্ধনের কাজও শেষ পর্যায়ে।

চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের পরিচালক ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বলেন, মূল এক্সপ্রেসওয়ে এখন যানবাহন চলাচলের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। কাজ শতভাগ সম্পন্ন হওয়া এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন প্রান্ত আমরা ঠিকাদারদের কাছ থেকে পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বুঝে নিচ্ছি। আগামী জুন মাসেই এক্সপ্রেসওয়ে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখনো দিন তারিখ নির্ধারিত হয়নি। এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহন চলাচলের টোলের হার নির্ধারণ এবং মন্ত্রনালয় থেকে অনুমোদিত হয়েছে। এই এক্সপ্রেসওয়েতে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার গতিতে যানবাহন চলাচল করতে পারবে। অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চলাচলের কোন সুযোগ থাকবে না। স্পিড ক্যামেরার মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ করবে।

চট্টগ্রাম মহানগরীর মূল শহর থেকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দূরত্ব মাত্র ১৮ কিলোমিটার। কিন্তু এই দূরত্ব অতিক্রম করতে বর্তমানে সময় লাগে এক থেকে দেড় ঘণ্টা। বন্দর ইপিজেড কেন্দ্রীক যানজটের কারণে কখনো কখনো এই দূরত্ব অতিক্রমে ২/৩ ঘণ্টাও সময় লেগে যায়। বছরের পর বছরের এই দুর্ভোগ আর সময়ের অপচয় থেকে মুক্তি পাবে চট্টগ্রামের কোটি মানুষ। চট্টগ্রামের প্রথম এবং দীর্ঘতম এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহন চলাচল শুরু হলে চট্টগ্রাম নগরী থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছানো যাবে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যেই।

চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে টোল দিয়েই যানবাহন চলাচল করতে পারবে। মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত টোলের যে হার নির্ধারিত হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে প্রাইভেট কার ১০০ টাকা, জিপ ১০০ টাকা, মাইক্রোবাস ১০০ টাকা, মিনিবাস ২০০ টাকা, বাস ৩০০ টাকা, ট্রাক (চার চাকা) ২০০ টাকা।

এক্সপ্রেসওয়েতে মোটরসাইকেল, ভারি ট্রাক (৬ চাকা) এবং কাভার্ড ভ্যান চলাচল করতে পারবে না বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে।

 

Print Friendly, PDF & Email

Related Posts