ফেসবুকে অপপ্রচারে বিব্রত চেয়ারম্যান প্রার্থী আসমা

 

 

শরীয়তপুর সংবাদদাতা: শরীয়তপুর সদরের আঙ্গারীয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আসমা আক্তার। ১০ অক্টোবর কেন্দ্র থেকে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার শুরু হয়েছে, এতে বিব্রত বোধ করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

আসমা আক্তার ছাত্রদলের পুরোনো একটি কমিটির ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন এমন একটি তালিকার ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

আসমা আক্তার জানান, তিনি কখনো ছাত্রদল করেননি। তিনি শরীয়তপুর জেলা পরিষদের সদস্য ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক। কেউ ষড়যন্ত্র করে ছাত্রদলের কমিটির তালিকায় অন্যের নামের স্থানে প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘঁষামাজা করে তার নাম বসিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

স্বামী ডা. মনিরুল ইসলামের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছেন দাবি করে তিনি বলেন, ‘কখনো বিএনপির রাজনীতি করিনি। আমি একজন নারী প্রার্থী, তাই দুর্বল ভেবে কেউ অপপ্রচার চালাচ্ছে। ওই সময়ের যে ছাত্রদলের কমিটি প্রকাশ করা হয়েছিলো সেটা আমরা সংগ্রহ করেছি। সেখানে নাজমা আক্তারের নাম পরিষ্কারভাবে লেখা আছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফেসবুকে এ ধরনের দুটি তালিকা ছড়িয়ে পড়েছে। একটিতে দেখা যায়, ২০০২ সালের ১০ জুন অনুমোদিত সদর উপজেলা ছাত্রদলের ওই কমিটির তালিকার ৪০ নম্বরে ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক পদের পাশে রয়েছে মোসাম্মৎ আসমা আক্তারের নাম। এদিকে আসমার সমর্থকেরা একই রকম দেখতে আরেকটি তালিকা ফেসবুকে দিয়েছেন। সেখানে দেখা যায়, ৪০ নম্বরে ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক পদের সামনে মোসাম্মৎ নাজমা আক্তারের নাম লেখা।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় ওই সময়ের শরীয়তপুর সদর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জামাল উদ্দিন বিদ্যুতের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আসমা আক্তারের সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। যে কমিটির তালিকা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে, সেখানে আসমার নাম দেখা যাচ্ছে। কিন্তু এটা ভুল। ওই কমিটির ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন মোসাম্মদ নাজমা আক্তার।’

নাজমা আক্তার চিতলীয়া ইউনিয়নের জয়নাল মাদবরের মেয়ে। সে সময় তিনি শরীয়তপুর সরকারি কলেজে ছাত্ররাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। বর্তমান তিনি ঢাকায় বসবাসরত। তার পরিবার আঙ্গারিয়া বসবাস করছেন। নাজমা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার মা সোনাবান বিবি বলেন, ‘আমার মেয়ে তখন কলেজে পড়াশুনা করতো, তখন শুনে ছিলাম রাজনীতি করতো। এখন কোন রাজনীতি করে না।’

আসমা আক্তারের স্বামী ডা. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ১৯৯৭ সালে বিয়ে করি। আমরা আওয়ামী পরিবারের লোক। তখন তো বিএনপির রাজনীতি করার প্রশ্নই উঠে না। যে কাগজটি দিয়েছে সেটা সম্পূর্ণ ভূয়া একটি কাগজ। আমার স্ত্রী নারী প্রার্থী হওয়ায় দুর্বল ভেবে বিদ্রোহী প্রার্থী অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি (ভিপি) আব্দুস সালাম বলেন, ‘২০১৭ সালে আসমা আক্তার জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগে রাজনীতি করেন। তিনি কখনো বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। আমি যখন শরীয়তপুর কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, ভিপি ছিলাম। তখন তাকে তেমন সক্রিয় রাজনীতি করতে দেখিনি। তবে ১৯৯৫-১৯৯৬ সালে কলেজ ছাত্র সংসদে তার খালা নাজনিন ছাত্রলীগ থেকে মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা পদে নির্বাচন করে। তখন তাকে দেখছি তার খালার জন্য ভোট চাইতে। আমরা তখন বিভিন্ন জায়গায় কমিটি করে তাদের ছাত্রলীগের জন্য ভোট চাইতে বিভিন্ন জায়গায় পাঠাইতাম।’

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আসমার স্বামী চিকিৎসক মনিরুল। তিনি আওয়ামী সমর্থক চিকিৎসক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। আসমা আওয়ামী লীগের সমর্থনে জেলা পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এখন স্বেচ্ছাসেবক লীগ করেন। তিনি কখনো ছাত্রদল করেছেন এমন তথ্য সঠিক নয়। তৃণমূল থেকে তার নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। দল তাকে মনোনয়ন দিয়েছে।’

আগামী ১১ নভেম্বর শরীয়তপুর সদর উপজেলার ১০টি ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আঙ্গারীয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ১৭ অক্টোবর রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মোট ৭ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আসমা আক্তার। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আনোয়ার হোসেন।

Print Friendly, PDF & Email

Related Posts