দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দশ চাকার ডাম্পার ওভারলোড বালুবাহী ট্রাক

মো. রাসেল হোসেন, ধামরাই: ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসহ ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আইন অমান্য করে ওভার লোড নিয়ে বেপরোয়া গতিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে প্রায় প্রায় অর্ধশতাধিক ১০ চাকার ডাম্পার বালুবাহী ট্রাক। তবুও প্রশাসন নিরব।

এসব যানের চাকার আঘাতে ক্ষত বিক্ষত হয়ে পড়েছে ঢাকা আরিচা মহাসড়ক সহ উপজেলার বিভিন্ন সড়ক। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়ক এখন ভেঙেচুরে একাকার। ফলে প্রতিদিন এলাকাবাসীসহ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পরিবহন চালক, যাত্রী ও পথচারীরা। প্রাণ হারাচ্ছে শিশু থেকে বৃদ্ধ বয়স্ক মানুষ। কেবল সড়কের ক্ষতি নয়, অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা।

আশুলিয়ার নয়ারহাট ও ধামরাই পৌর শহরের বাটার গেট এর পাশে ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের বড় ছেলে শিবলুর মালিকানাসহ কয়েকটি বালুর গদি থেকে প্রতিদিন প্রায় অর্ধশতাধিক ওভারলোড বালু গাড়ি উপজেলার বিভিন্ন গন্তব্যে যাচ্ছে। ১০ চাকার ডাম্পার বালুবাহী ট্রাক নামছে নদীর তীরে। প্রতিটি ১০ চাকার ট্রাক বা ডাম্পার বহন করছে অন্তত ৪৫ থেকে ৫০ মেট্রিক টন বালু। ছয় চাকার ডাম্পার বহন করছে ২৫ থেকে ৩০ টন। পাঁচ টন বহন ক্ষমতার ট্রাকে বালু যাচ্ছে ১১ থেকে ১৪ টন। আর অনভিজ্ঞ চালকরা বেখেয়াল ভাবেই চালাচ্ছে।

দণ্ডবিধিতে বলা আছে কোনো সরকারি সম্পদের ক্ষতি করলে এর শাস্তি বিধান রয়েছে। ৪৩১ ধারা মোতাবেক সরকারি রাস্তার ক্ষতি সাধন দণ্ডনীয় অপরাধ। এ অপরাধের জন্য দায়ি ব্যক্তি পাঁচ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম জেলসহ অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে। অথচ রহস্যজনক কারণে প্রশাসন ও পুলিশ নীরব।

সরেজমিনে উপজেলা সদরের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রশাসন-পুলিশ সদস্যদের সামনে দিয়ে অবাধে চলাচল করছে বালুবাহী ডাম্পার ট্রাক। কিন্তু এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে কোনো আইন প্রয়োগ না করে শুধু মোটরসাইকেল ধরপাকড় করছে সংশ্লিষ্টরা। এলাকাবাসী জানায়, বালু বহনকারী বেপরোয়া যান চলাচলে ধুলোবালি উড়ে রাস্তার দু’পাশের ঘরবাড়ি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে; হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য।

সুতিপাড়ার বাসিন্দা সাংবাদিক বাবুল হোসেন জানান, আমি নিজে একজন ভুক্তভোগী। আমার বাড়ি রাস্তার পাশে।আমার বাড়ির পাশ দিয়ে প্রতিদিন ১০ চাকার ডাস্পার বালুবাহী ট্রাকসহ ছোট ছোট ট্রাম ট্রাক দিয়ে মাটি বালু নেওয়া আসা করে। আমি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ জানিয়েছি।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি ভিডিও প্রকাশ করেছি কিন্তু কোন কাজ হয়নি।বর্তমানে রাতে বাড়িতে থাকা কষ্টদায়ক হয়ে পরেছে।আমি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

সড়কের ক্ষতির বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ বিভাগ নয়ারহাট এর সহকারি নির্বাহী প্রকৌশলী আরাফাত সাকলাইন বলেন, সড়ক নষ্টের অন্যতম কারণ ওভার লোড বহন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

এ ব্যাপারে হাইওয়ে গাজীপুর রিজিওনের পুলিশ সুপার আহমদ আলী খান জানান, মহাসড়কে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালালে আমরা নিয়মিত মামলা দায়ের করছি।ওভারলোড করে যারা গাড়ি চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দিতে গেলে ওভারলোড প্রমাণ করতে হয়। আর সেই ওভার লোড প্রমাণে স্কেল লাগে সেটা আমাদের নাই যদি স্কেল কর্তৃপক্ষ আমাদের বলে তাহলে আমরা মামলা দেই অথবা চাইলে তারা জরিমানা করতে পারে।আমরা বিষয়টি নজরে রাখব।

Print Friendly, PDF & Email

Related Posts