বীমাশিল্পে বঙ্গবন্ধু ও তার ইতিকথা

জ.ই.বুলবুল: বর্ণমালার দুটি শব্দ একটি নাম বীমা।বীমা কোম্পানিতে চাকরি করতেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বিষয়টি সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় আনেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।২০২০ সালের ১ মার্চ বীমা দিবসের আলোচনায় তিনি বলেছিলেন- ‘বীমা করা থাকলে দুঃসময়ে মানুষ সাহায্য পায়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজে বীমা কোম্পানিতে চাকরি করতেন।’ প্রধানমন্ত্রী ওই দিন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় জড়িয়ে কারাবন্দী করা হয়। জনগণের আন্দোলনের মুখে আইয়ুব খান সেই মামলা প্রত্যাহার করেন। মুক্তি পেলে একটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি থেকে বঙ্গবন্ধুকে চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি জীবন-জীবিকার জন্য ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে কাজ করেছেন। তাই তিনি বীমার গুরুত্ব জানতেন। এ জন্য ৪৯ বীমা কোম্পানিকে করেছিলেন জাতীয়করণ। পরে তিনি বীমা করপোরেশনের উন্নয়নে আইন প্রণয়ন করেন।’

শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘আমার বাবা শেখ মুজিবুর রহমান আলফা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে চাকরি করতেন। সে হিসেবে আমরা বীমা পরিবারের একজন সদস্য। যেহেতু পাকিস্তানি শাসকরা বঙ্গবন্ধুকে রাজনীতি করতে দিতেন না, সে কারণে তিনি আলফা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে ইন্স্যুরেন্স কন্ট্রোলার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।ইনসিওরেন্স কোম্পানির প্রচার চালাতে দেশব্যাপী তাকে ঘুরতে হয়েছে।’

বাংলাদেশ ইনসিরেন্স একাডেমী (বি আইএ) পরিচালক এস, এম ইব্রাহিম হোসাইন, এসিআইআই ও অনুরুপ বাংলাদেশ ইনসিওরেন্স আ্যসোসিয়েশন (বিআইএ) প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বীমাশিল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই আমরা জাতীয় বীমা দিবস উদযাপন করতে পারছি। কিন্তু বীমাশিল্প যদি জাতীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান না রাখে, তা হলে তো বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে না।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬০ সালের ১ মার্চ তৎকালীন পাকিস্তানের আলফা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে যোগ দিয়েছিলেন। সেই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআর) অনুরোধে ১ মার্চকে ‘জাতীয় বীমা দিবস’ ঘোষণা করে সরকার।

উল্লেখ্য, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬০ সালের ১ মার্চ আলফা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে যোগদান করেন। বীমা পেশায় তার যোগদানের দিনটিকে স্মরণে রাখতে সরকার ১ মার্চকে ‘জাতীয় বীমা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

★বীমা কী কেন করতে হবে?

বীমা একজন বিনিয়োগকারীর ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে, একই সঙ্গে তার ঝুঁকিও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ভাগাভাগি করে নেওয়া হয়। বীমা হচ্ছে- নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে জীবন, সম্পদ বা মালামালের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি কোনো প্রতিষ্ঠানকে স্থানান্তর করা।

একজন বীমা বিশেষজ্ঞ ও মেঘনা ইনসিওরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ব্যাবস্হাপনা পরিচালক আবুবকর সিদ্দিক বলেন, বীমা এক ধরনের বিনিয়োগ। এর মানে হচ্ছে আপনি ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার কথা ভেবে এখন একটি নির্দিষ্ট অর্থ জমা রাখছেন, নির্দিষ্ট মেয়াদের পর আপনি আপনার অর্থ হাতে পাবেন। এটা আপনার ঝুঁকি আরেকজনের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার মতো। তাছাড়া জেনারেল ইনসিওরেন্স করেও ব্যাপক লাভজনক হচ্ছেন মানুষ।

উদাহরণ টেনে তিনি আরো বলেন, হেলথ ইনস্যুরেন্স বা স্বাস্থ্যবীমার কথা, যেখানে নিজের স্বাস্থ্য পরিস্থিতির বিপরীতে আপনি নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ জমা করছেন, উদ্দেশ্য হচ্ছে যদি আপনার কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তা হলে ঐ বীমা প্রতিষ্ঠান আপনার স্বাস্থ্য ব্যয়ের ও সম্পদের একটি বড় অংশ প্রদান করবে।

এই যে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ আপনি জমা রাখছেন, একে বলা হয় প্রিমিয়াম।

অসুস্থ হলে বা দুর্ঘটনা ঘটলে সাধারণত স্বাস্থ্যবীমা তালিকাভুক্ত হাসপাতালগুলোতে ক্যাশলেস সেবা অথবা সেবা গ্রহণ পরবর্তীকালে গ্রাহককে বীমার অর্থ প্রদান করার কথা।

বীমা নিরাপত্তা- সহজ কথায় বলতে গেলে, এটি ভবিষ্যতের সম্ভাব্য হাত থেকে নিজেকে সুরক্ষিত করার জন্য অর্থ প্রদানের মতো। তাই বীমার গুরুত্ব অপরিসীম।

লেখক: সিনিয়র গণমাধ্যম কর্মী।

Print Friendly, PDF & Email

Related Posts