ফরিদপুরে পরিবহন ধর্মঘটে যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে

ফরিদপুর সংবাদদাতা: মহাসড়কে থ্রি হুইলার বন্ধের দাবিতে শুক্রবার (১১ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়েছে ৩৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট। এই ধর্মঘট আগামীকাল শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে।

এতে সড়কে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। জরুরী প্রয়োজনে বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়ে বাসস্ট্যান্ডে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে। অনেকে অসুস্থ আত্মীয় স্বজন নিয়েও বিপাকে পড়েছেন।

ফরিদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে ফিরে যাওয়ার সময় কথা হয় ঢাকাগামী যাত্রী রোকেয়া বেগমের সাথে।

তিনি বলেন, আমার স্বামীর অসুস্থতার কারণে ঢাকা যাওয়ার জন্য এসেছিলাম। ডেঙ্গুর কারণে তার অবস্থা ভালো না। এখন কালকেও যেতে পারব না। আল্লাহ জানেন তার কি হয়।

রাজশাহী থেকে আসা রাজমিস্ত্রি বাবু (৪০) বলেন, একমাস কাজ শেষে বাড়িতে যাওয়ার জন্য আসলাম। এসে দেখি গাড়ি চলেনা, এখানে এখন আমার থাকা-খাওয়ার জায়গা নেই।

এরকম আরও অনেক মানুষ ধর্মঘটের জন্য চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। অন্যদিকে, বাস বন্ধ থাকায় পরিবহন শ্রমিকরা অলস সময় কাটাচ্ছেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জেডএম জাহিদ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ফরিদপুরে বিএনপির গণসমাবেশকে বাধাগ্রস্ত করার জন্যই বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। ধর্মঘটের কারণে গোপালগঞ্জ, শরয়িতপুর, রাজবাড়ি, যশোর থেকে নেতাকর্মীদের সমাবেশে আসতে কষ্ট করতে হচ্ছে। অনেক নেতাকর্মী আসতেও পারবে না।

এদিকে জেলা বাস মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গোলাম নাসির বলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মহাসড়কে অবৈধ যান চলাচল বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য ফরিদপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) অতুল সরকারের মাধ্যমে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার বরাবর গত ৭ নভেম্বর চিঠি দিয়ে আমাদের দাবি মেনে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলাম। তবে সেই দাবি মানা হয়নি। ফলে ভোর ৬টা থেকে ১২ নভেম্বর শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত ফরিদপুর জেলা বাস টার্মিনাল থেকে আঞ্চলিক বাস ও মিনিবাসসহ দূরপাল্লার পরিবহনের সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

 

Print Friendly, PDF & Email

Related Posts