ভাষা শহীদদের স্মরণে একুশে বইমেলা

রায়হান আহমেদ তপাদার

এ কথা বললে ভুল হবে না যে, বাঙালির সভ্যতার ভিত রচিত হয়েছে একুশের শহিদের আত্মদানের ওপর। ভাষাই মানুষকে মানুষ করে তোলে। নির্মম সত্য কথা। মানুষের যখন ভাষা ছিল না, তখন মানুষ ও পশুর সঙ্গে পার্থক্য ছিল না। মানুষের ব্যক্তিজীবন, সমাজজীবন, রাষ্ট্রজীবন ও জাতীয় জীবনের বিকাশ ঘটে ভাষার মাধ্যমে। ভাষা মানুষের বেঁচে থাকার হাতিয়ার। এ হাতিয়ার কেড়ে নিতে চেয়েছিল শাসকরা, রুখে দিয়েছিল ভাষাশহিদরা। মানুষের মতো মানুষ হতে হলে চাই মাতৃভাষা, চাই নিজেদের সাহিত্য ও সংস্কৃতি। স্বদেশ প্রেম জন্মভূমির জন্য মানুষের এক ধরনের অনুরাগপূর্ণ ভাবাবেগ। এককথায় স্বদেশ প্রেম বলতে বোঝায় নিজের জন্মভূমিকে অন্তরের অন্তস্থল থেকে ভালোবাসা। জন্মসূত্রে মাতৃভূমির সঙ্গে গড়ে উঠে মানুষের নাড়ির যোগ।স্বদেশের জন্য ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার মনেই জন্ম নেয় গভীর প্রীতি ও ভালোবাসা। যে ভালোবাসা অন্তর থেকে উৎসারিত। বড় হয়ে মানুষ অন্য কোথাও চলে যেতে বাধ্য হলেও জন্মভূমির মায়া কখনো ভুলতে পারেনা।জন্মভূমির প্রতি, শৈশবের লীলাভূমির প্রতি মানুষের এ সীমাহীন আকর্ষণ ও অকৃত্রিম ভালোবাসাকেই বলে স্বদেশ প্রেম। স্বদেশের মাটি, আলো-বাতাস, আবহাওয়া, আকাশ, ঋতুবৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মানুষের মনকে সদা উৎফুল্ল করে ও আচ্ছন্ন রাখে। জন্মভূমির শ্যামল মাটি, সবুজ বনানী ও অন্নজলের প্রতি মানুষের মমত্ববোধ অপরিসীম ও চিরন্তন। স্বদেশকে ভালোবেসে যুগে যুগে অনেক বীর যুদ্ধে শহিদ হয়েছেন। আমাদের মুক্তিও তেমনি দেশপ্রেমের এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত। বঙ্গবন্ধুর ডাকে জাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে এক প্রাণ হয়ে দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

মূলত দেশপ্রেম এমন একটি গুণ, যা একজন মানুষকে তার স্বার্থ, স্বাচ্ছন্দ্য, আনন্দ এমনকি দেশের বৃহত্তর স্বার্থের জন্য তার জীবন উৎসর্গ করতে বিশেষভাবে উদ্বুদ্ধ করে। স্বদেশ প্রেমের অনন্ত স্পৃহা মানুষকে দায়িত্বশীল, কর্তব্যপরায়ণ, উদ্যমী ও উজ্জীবিত করে তোলে। তা ছাড়া স্বদেশ মানুষকে স্বার্থপরতা, সম্প্রদায় ও গোষ্ঠীগত সংকীর্ণতা এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে তুলে এক স্বপ্নিল ও সমৃদ্ধ দেশ গঠনে সক্ষম করে তোলে। একজন দেশপ্রেমিকের প্রথম এবং প্রধান কর্তব্যই হলো তার দেশের সব উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আত্মনিয়োগ করা। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য যেমন প্রত্যেকটি দেশপ্রেমিক নাগরিক অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় সজাগ থাকতে হবে; তেমনি দেশের শিক্ষা, শিল্প, কৃষি, বাণিজ্য ইত্যাদি আর্থসামাজিক উন্নয়নের কাজ করা ও ত্যাগ স্বীকার করা সত্যিকার দেশপ্রেমিকের পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য। মানুষ কর্তৃক ভাষা-সৃষ্টি বা ভাষা-ব্যবহারের আদি প্রক্রিয়া যেমনই হোক না কেন, ভাষা কালে-কালে মানুষের জীবনে আরও অনেক-কিছুর সঙ্গে বিবিধ সুরকে ছন্দকে কিংবা বন্ধনকে প্রসারিত করেছে। যে-সময় থেকে মানুষ তার ভাবের আদানপ্রদানে, যোগাযোগে ভাষাকে রীতি বা যৌক্তিকতার ভিতরে সত্যি সত্যি কাজে লাগাতে পারল সেই সময় থেকে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের গতিটাও বেড়ে গিয়েছিল-তা আমরা ভাবতেই পারি। ভিন্ন-ভিন্ন সময়ে নানা পরিবর্তনের ভিতরেই ভাষাকে কাজে লাগিয়ে মানুষ জীবনযাপনকে অনেক সহজ এবং উন্নত করেছে। ভাষা মানুষকে কত অচেনা ছোটোবড় পথ চিনে নিতে সহায়ক হয়েছে, কত পথ-চলাকে করেছে সহজ। আমাদের জীবন এবং সমাজের সঙ্গে আমাদের মাতৃভাষার সম্পর্ক গভীর, নিরন্তর। আমাদের চিন্তাভাবনাগুলো মাতৃভাষার সরোবরেই প্রতিনিয়ত সাঁতার কাটে।

আমাদের মাতৃভাষা আমাদের চিন্তার ভাষা, স্বপ্নের ভাষা। স্বপ্নে কথা বলতে হলে আমরা মাতৃভাষায় বলি। আমরা যদি কল্পনা করি মানুষের কোনও ভাষা নেই, তাহলে আমাদের অনুভবে আসে আমাদের জীবনেও অনেক-কিছুর কোনও অস্তিত্ব নেই। ভাষাহীন মানুষ পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে পারলেও তার পক্ষে অনেক বিচিত্র কাজই করা সম্ভব নয়। ভাষাহীন মানুষ এত সহজে বোঝাতে পারে না ‘সবার উপরে মানুষ সত্য,তাহার উপরে নাই।’ ভাষা জাতিনির্ভর কোনও বিষয় না হলেও পৃথিবীতে কোনও কোনও জাতিসত্তা শুধু ভাষার ঐক্যে প্রতিষ্ঠিত, আবার ভাষাগত ঐক্য ছাড়া জাতীয় ঐক্য হওয়ার নয়, এমনটিও ভাবার অবকাশ নেই, যেহেতু ভাষাগত ঐক্য ছাড়াও জাতীয় ঐক্যের নজির আছে। পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গের বিপুল সংখ্যক মানুষের যোগাযোগ এবং মানসিক ঐক্যের বীজসূত্র এই ভাষা। বর্তমান আরব জাতির অস্তিত্ব ভাষার ঐক্যেই সমাবৃত। ইউরোপ- আফ্রিকাসহ পৃথিবীর নানা জায়গায় নানা সময়ে স্থানিক ভাষা ও সংস্কৃতি জাতীয়তাবাদী চেতনায় অনুপ্রেরণার উৎস হিশেবে ভূমিকা রেখেছে। ফরাসিরা অবহিত যে, তাদের ভাষাই হল তাদের জাতিসত্তা কিংবা সংস্কৃতির সুর, শক্তি, গৌরব। ভারতীয়রা যে ভারতীয় এই ধরণা সৃষ্টিতেও সংস্কৃত ভাষার ভূমিকাকেও অস্বীকার করা যায় না। আমাদের সবারই জানা, বিশ শতকে পৃথিবীর বুকে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিশেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় বাংলা ভাষাভিত্তিক জাতীয়তারই ঐক্যে। বাংলা ভাষার ইতিহাস থেকে প্রাচীন বঙ্গভূমি, বর্তমান বাংলাদেশ কিংবা বাঙালি জাতির ইতিহাসকে কোনও ভাবেই বিযুক্ত করা যায় না। বাংলা ভাষা বাঙালি সংস্কৃতির সুর, শক্তি, গৌরব। বাংলা ভাষা বাঙালির প্রাণের ভাষা, গানের ভাষা, হাসি-কান্না এবং স্বপ্নের ভাষা। অনেক প্রতিকূলতাকে মোকাবিলা করে বাংলা ভাষা পরিপুষ্ট হয়েছে।

এই ভাষার ঐশ্বর্য আছে, ইতিহাস আছে, সমৃদ্ধ সাহিত্য আছে। এই ভাষার সৌন্দর্য ফোটে আমাদের হৃদয়কাননে, সৌন্দর্য ফোটে চিন্তায়, কথনে, শ্রবণে, লেখাজোখায় কিংবা পঠনে। আজকের বিশ্বায়নের প্রবল স্রােতধারায় শুধু জাতি-রাষ্ট্র, জাতীয় স্বাতন্ত্র্য, জাতীয়তাবোধ যে নীরবে-নিঃশব্দে ক্ষয়ে যাচ্ছে তাই নয়, জাতীয় ভাবধারার মাধ্যমে যে ভাষা তাও ক্রমে ক্রমে ক্ষয়িষ্ণু হয়ে উঠছে। বিশ্বায়নের একালে বহুজাতিক করপোরেশনের স্বার্থে বিশ্বব্যাপী এককেন্দ্রিক সংস্কৃতির বিজয় নিশ্চিত করতে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের পরিবর্তে সাংস্কৃতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। যেহেতু সংস্কৃতির অন্যতম মাধ্যম হলো ভাষা, তাই ভাষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে। বেশ কিছু ভাষার অপমৃত্যু ঘটেছে এরই মধ্যে। ২০০১ সালের এক হিসাবে দেখা যায়, বর্তমানে প্রায় ৪০ কোটি জনসমষ্টি ইংরেজিকে ব্যবহার করছে তাদের প্রথম ভাষা হিসেবে। আরো ২৫ কোটি মানুষের কাছে ইংরেজি দ্বিতীয় ভাষা। প্রায় ১০০ কোটি মানুষ এ মুহূর্তে ইংরেজি শিক্ষায় গভীরভাবে মনোযোগী। অনেকের ভবিষ্যদ্বাণী, ২০৫০ সালে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনসমষ্টির ভাষা হবে ইংরেজি। বিশ্বায়নের এ যুগে বিশ্বময় যোগাযোগের মাধ্যম হয়েছে ইংরেজি। ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছে ইংরেজিতে। কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ইংরেজি। তাই আজ ইংরেজি শুধু একটি ভাষা নয়, এটি এখন এক নব্য সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। এভাবে আজকের এককেন্দ্রিক বিশ্বে একদিকে যেমন বিশ্বের একক ভাষা হিসেবে ইংরেজির অবস্থান ক্রমে ক্রমে অপ্রতিদ্ব›দ্বী হয়ে উঠছে, অন্যদিকে তেমনি বিশ্বের প্রায় সাত হাজার ভাষার মধ্যে প্রতি সপ্তাহে দু’টি এবং প্রতি বছরে শতাধিক ভাষা অপমৃত্যুর কবলে পড়ছে।

অনেক বিজ্ঞজনের ধারণা, এই শতাব্দীর শেষ প্রান্তে বিশ্বের শতকরা ৬০ থেকে ৯০ ভাগ ভাষার ভাগ্য বিড়ম্বনা ঘটতে পারে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর প্যারিসে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংক্রান্ত সংস্থা ইউনেস্কোর অধিবেশনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। তাই ২০০০ সাল থেকে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্টগুলোয় ২১ ফেব্রুয়ারি পালিত হয়ে আসছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। ইউনেস্কোর এ সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের একটি বিশিষ্ট অর্জন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করল এবং বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের উজ্জ্বল অধ্যায়টি বিশ্ব ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে। এজন্য দেশ গঠনের কাজে আবালবৃদ্ধবনিতা সবাইকে স্বদেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ ও সমবেত করে ঐক্যবদ্ধ জাগরণ সৃষ্টি করতে হবে। তাহলেই বিস্ময়াবিষ্ট পৃথিবী মোহাবিষ্ট কণ্ঠে আবারও গেয়ে উঠবে শাবাশ বাংলাদেশ! এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয় জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার; তবু মাথা নোয়াবার নয়। জননী জন্মভূমি স্বর্গের চেয়ে বেশি বড় মনে করার পেছনে কাজ করে দেশপ্রেম। তাই মা আর জন্মভূমি বা নিজের দেশ একপর্যায়ে স্থান পায়। যে দেশের মাটিতে মানুষের জন্ম হয়; সেদেশের ইতিহাস তার মনের ওপর বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে। নিজের কুঁড়েঘর থেকে যেমন মানুষ সুখ খুঁজে পায়, তেমনি নিজের দেশকে ভালোবেসে প্রকৃত সুখ পাওয়া যায়। ১৯৭১ সালে মাত্র ৯ মাস মুক্তিযুদ্ধ চলে। এ যুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ শহিদ হন। স্বাধীনতার শত্রুর কাছ থেকে ছিনিয়ে এনেছে রক্তিম সূর্য। মায়ের ভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠার জন্য এ দেশের সূর্যসন্তানরা জীবন দিয়েছেন। যাদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের এ দেশ। দেশকে ভালোবাসে বলেই আমরা এ দেশ পেয়েছি; সেসব ব্যক্তির নাম ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে আছে।

দেশপ্রেম মানুষের মনকে উন্নত করে। দেশপ্রেমের ফলে মানুষের মন মহৎ ও উদার হয়। মনের ভেতর স্বদেশের জন্য ভালো কাজ করার উৎসাহ পায়। দেশপ্রেমের মহিমার ফলে জাগ্রত হয় অপরের জন্য কল্যাণ। কবি মাইকেল মধুসূধন দত্ত স্বদেশ ছেড়ে ইউরোপে গিয়ে বুঝতে পেরেছিলেন দেশের মাটি, মানুষ, প্রকৃতি কত যে প্রিয়। তাই বিদেশে অবস্থান কালে তিনি কপোতাক্ষ নদকে উপলক্ষ করে লিখেছিলেন ‘সতত হে নদ, তুমি পড় মোর মনে, সতত, তোমারি কথা ভাবি এ বিরলে।’ অগণিত স্বাধীনতাকামী দেশপ্রেমিকের আত্মদানের ফলে বাংলাদেশ আজ স্বাধীন ও সার্বভৌম একটি রাষ্ট্র। বিশ্বের ইতিহাসে দেশপ্রেমের ভূরিভূরি দৃষ্টান্ত বর্তমান। যুগে যুগে অসংখ্য দেশপ্রেমিক স্বদেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আত্মাহুতি দিয়েছেন। ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, মহাত্মা গান্ধী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, নেতাজি সুবাস বসু, তিতুমীর মাস্টারদা সূর্যসেন, খুদিরাম প্রমুখের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিখিত রয়েছে। বাঙালি জাতি স্বাধীনতা সংগ্রামসহ বিভিন্ন সংগ্রামের মাধ্যমে স্বদেশ প্রেমের যে পরিচয় দিয়েছে, তা বিশ্ববাসীর স্মৃতিপটে চিরকাল উজ্জ্বল আলোকবর্তিকার ন্যায় ভাস্মর হয়ে থাকবে। আর এ রাষ্ট্রের আজ একবিংশ শতাব্দীর নতুন চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সব জড়তা ও পশ্চাৎপদতাকে পেছনে ফেলে শৌর্যবীর্য সমৃদ্ধিতে বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর।

লেখক: গবেষক ও কলাম লেখক
raihan567@yahoo.com

Print Friendly

Related Posts