নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ

ব্যাট হাতে আশানুরূপ না হলেও বল হাতে দিনটা স্বপ্নের মতো কেটেছে বাংলাদেশের। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চতুর্থ দিন শেষে জয়ের দ্বারপ্রান্তে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা।

টাইগারদের দেয়া ৩৩২ রান তাড়ায় নেমে শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) চতুর্থ দিনের খেলা শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে কিউইদের সংগ্রহ ৭ উইকেট হারিয়ে ১১৩ রান। জয়ের জন্য সাউদিদের প্রয়োজন আরও ২১৯ রান। আর শান্ত বাহিনীর প্রয়োজন মাত্র ৩ উইকেট। ক্রিজে ৪৪ রানে অপরাজিত থাকা ড্যালি মিচেলের সঙ্গী ৭ রানে অপরাজিত থাকা ইশ সোধি।

দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে একাই ৪ উইকেট নিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। এছাড়া একটি করে উইকেট নিজেদের ঝুলিতে পুরেছেন শরিফুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসান।
 
এদিন দ্বিতীয় সেশনে রান তাড়ায় নেমে স্কোরবোর্ডে রান তোলার আগেই সাজঘরে ফেরেন টম ল্যাথাম। পেসার শরিফুল ইসলামের অফ স্টাম্পের বাইরের বল ল্যাথামের ব্যাটে এজ হয়ে ধরা পড়ে নুরুল হাসান সোহানের গ্লাভসে। শরিফুলের পর স্পিনাররা আক্রমণে এসে ধস নামায় কিউই শিবিরে। দলের খাতায় ১৯ রান যোগ হতেই তাইজুলের শিকার কেন উইলিয়ামসন। আগের ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান এদিন ২৪ বলে ১১ রান করে এলবিডব্লিউ হন।  ক্রিজে আসেন হেনরি নিকোলস। তবে তাকেও বেশিক্ষণ টিকতে দেননি টাইগার স্পিনার মেহেদী মিরাজ। তার বল সুইপ করতে গিয়ে নাঈম হাসানের তালুবন্দী হন নিকোলস। ক্রিজ ছাড়ার আগে নিকোলসের ব্যাট থেকে আসে ৮ বলে ২ রান।
এরপর আবার তাইজুলের ঘূর্ণিতে পরাস্ত হয়ে সাজঘরে ফেরেন ডেভন কনওয়ে ও টম ব্লান্ডেল। ওপেনার কনওয়ে ৭৬ বলে ২২ রান করে শর্টে থাকা ফিল্ডার শাহাদাত হোসেন দীপুর হাতে ক্যাচ দেন। অন্যদিকে ১৬ বলে ৬ রান করে সোহানের হাতে কট বিহাইন্ড হয়ে ফেরেন ব্লান্ডেল।
ষষ্ঠ উইকেটে গ্লেন ফিলিপসকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন ড্যারিল মিচেল। কিন্তু তাদের জুটি ২১ রানের বেশি এগোতে দেননি নাঈম হাসান। ২৬ বলে ১২ রান করে ফিলিপস লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন। ক্রিজে এসে স্থায়ী হতে পারেননি কাইল জেমিসনও। ২৮ বলে ৯ রান করে তিনি তাইজুলের ঘূর্ণি মিস করে এলবিডব্লিউ হন। তাতে ১০২ রানেই ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলে নিউজিল্যান্ড। বাকি সময় সতর্ক থেকে দিন পার করেন মিচেল ও সোধি। যদিও আম্পায়ারের এলবিডব্লিউয়ের বিরুদ্ধে রিভিউ নিয়ে নিজের উইকেটটি শেষ দিনের জন্য ধরে রেখেছেন সোধি।
এর আগে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৩৮ রান তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। ৩ উইকেটের বিনিময়ে ২১২ রানে চতুর্থ দিন শুরু করেছিল শান্ত বাহিনী। কিন্তু এদিন বেশি দূর যেতে পারেননি আগের দিন সেঞ্চুরি হাঁকানো টাইগার অধিনায়ক শান্ত। দিন শুরুর দ্বিতীয় ওভারেই টিম সাউদির লেগ স্টাম্পের বাইরে বলে খোঁচা দিয়ে কট বিহাইন্ড হন শান্ত। ১৯৮ বলে ১০ চারের মারে ১০৫ রানে থামে তার ইনিংস।
আগের দিন ৪৩ রানে অপরাজিত থাকা মুশফিক এদিন ফিফটি হাঁকিয়ে ব্যক্তিগত ৬৭ রানে অ্যাজাজ প্যাটেলের বলে এলবিডব্লউ হন। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি এ ব্যাটার। ১১৬ বল মোকাবিলায় তার ইনিংসটি সাজানো ছিল ৭ চারের মারে। অন্যদিকে অভিষিক্ত শাহাদাত হোসেন দীপু এদিন আউট হন মাত্র ১৮ রানে। তাকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন ইশ সোধি।
এদিন কিউই স্পিনে পরাস্ত হয়েছেন এক বছর পর দলে ফেরা নুরুল হাসান সোহানও। একবার জীবন পাওয়া এ উইকেটরক্ষক ব্যাটার ২৭ বলে ১০ রান করে গ্লেন ফিলিপসকে স্ট্রেইটে তুলে মারতে গিয়ে তার হাতেই ক্যাচ তুলে দেন। একপ্রান্ত আগলে রাখা মেহেদী হাসান মিরাজকে এদিন সঙ্গ দিনে ব্যর্থ হন তিন টেলএন্ডার নাঈম হাসান, তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম। ৭৬ বলে ৫ চারের মারে ৫০ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তার কল্যাণেই বাংলাদেশের লক্ষ্যটা ৩০০ ছাড়িয়েছে।
কিউইদের পক্ষে ১৪৮ রান খরচায় সর্বোচ্চ ৪ উইকেট তুলে নেন অ্যাজাজ প্যাটেল। ৭৪ রান খরচায় ২ উইকেট নেন ইশ সোধি। এছাড়া ১টি করে উইকেট নিয়েছেন টিম সাউদি ও গ্লেন ফিলিপস। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ৩১০ রানের জবাবে কিউইরা ৩১৭ রান তুলেছিল।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে অতীত রেকর্ডটা ভালো নয় বাংলাদেশের। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে আগের ১৭ বারের দেখায় মাত্র ১ জয় টাইগারদের। ১৩ হারের বিপরীতে ড্র ৩ ম্যাচে। তার ওপর সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও লিটন দাসের মতো সিনিয়র ক্রিকেটারদের ছাড়া উইলিয়ামসনদের মোকাবিলায় মাঠে নেমেছে শান্তর নেতৃত্বাধীন অনভিজ্ঞ এক দল।
তবে সিলেটে চতুর্থ দিনের খেলা শেষে পাত্তা পাচ্ছে না আগের সে সব পরিসংখ্যান। ম্যাচের ফলাফল এখন অনেকটাই স্বাগতিকদের পক্ষে। মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টের পর আরও একবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে ইতিহাস গড়ার হাতছানি টাইগারদের সামনে। শেষ দিন মাত্র ৩ উইকেট তুলে নিতে পারলেই নিজের প্রথম টেস্ট অধিনায়কত্বেই সাফল্যের গল্প লিখবেন শান্ত। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৩-২৫ চক্রটা বাংলাদেশ শুরু করবে জয় দিয়ে।
Print Friendly

Related Posts